
হজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য জীবনে একবার ফরজ। হজের ইতিহাস ইবরাহিম (আ.)-এর সময় থেকে শুরু, আর নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর বিদায় হজে এর বর্তমান রূপ পূর্ণতা পায়। এই লেখায় হজের ঐতিহাসিক পটভূমি, কুরআনের নির্দেশ, সহিহ হাদিসের আলোকে ফজিলত ও হজ ফরজ হওয়ার শর্ত সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
ইবরাহিম (আ.) ও কাবা ঘর
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে কাবা ঘর নির্মাণ করেন। কুরআনে সূরা বাকারার একটি আয়াতে এই ঘটনার উল্লেখ আছে, যেখানে তাঁরা ঘর নির্মাণ করতে করতে আল্লাহর কাছে তা কবুল করার দোয়া করেছিলেন। কুরআনে আরও এসেছে, ইবরাহিম (আ.)-কে মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল (সূরা হজ, ২২:২৭)।
হাজেরা (আ.) ও জমজম
সহিহ বুখারির বর্ণনায় শিশু ইসমাইল (আ.)-এর জন্য পানি খুঁজতে সাফা ও মারওয়ায় হাজেরা (আ.)-এর দৌড়ানোর কথা এসেছে। আল্লাহর ইচ্ছায় সেখানে জমজমের উৎস প্রকাশ পায়। কুরআনে সাফা ও মারওয়াকে আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্গত বলা হয়েছে (সূরা বাকারা, ২:১৫৮)। আজও হাজিরা সাঈ ও জমজম পানের মাধ্যমে সেই স্মৃতি অনুভব করেন।
ইসলামের আগে কাবা ও হজের অবস্থা
বহু শতাব্দী পর আরবের কোনো কোনো গোত্র কাবার সামনে মুর্তি রাখতে শুরু করে এবং হজের রীতিতেও বিশুদ্ধ তাওহিদের বদলে শির্কের মিশ্রণ ঘটে। মক্কা বিজয়ের সময় নবী (সা.) কাবা প্রাঙ্গণ মুর্তিমুক্ত করেন এবং তাওহিদের ভিত্তিতে হজ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। এই অধ্যায়ের গুরুত্ব হলো, হজের মূল বার্তা হলো এক আল্লাহর ইবাদত।
কুরআনে হজের নির্দেশ
আল্লাহ বলেন, মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য এই ঘরের হজ করা ফরজ, যার সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য আছে। (সূরা আলে ইমরান, ৩:৯৭)
কুরআনের সূরা বাকারায় হজ ও উমরাহ আল্লাহর জন্য পূর্ণ করার নির্দেশ এসেছে (২:১৩৬) এবং হজের নির্দিষ্ট মাসগুলোর কথা বলা হয়েছে (২:১৯৭)। সেখানে হজের সময় অশ্লীলতা, পাপ ও বিতর্ক থেকে দূরে থাকার নির্দেশও আছে। অর্থাৎ হজ শুধু শারীরিক কাজ নয়, চরিত্র শোধরানোরও একটি সুযোগ।
হাদিসে হজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- নবী (সা.) বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার একটি আল্লাহর ঘরের হজ (বুখারি, মুসলিম)।
- যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করে এবং অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত থাকে, সে সদ্যজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফেরে (বুখারি, মুসলিম)।
- কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত (বুখারি, মুসলিম)।
- সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে, ইসলাম গ্রহণ, হিজরত ও হজ আগের গুনাহ মিটিয়ে দেয়।
এই হাদিসগুলো হজের মর্যাদা প্রকাশ করে। কিন্তু ফজিলতের আশায় হজ করা নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ত।
বিদায় হজ
নবী (সা.) ১০ হিজরিতে (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) তাঁর একমাত্র হজ করেন, যা বিদায় হজ নামে পরিচিত। আরাফাতের ময়দানে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে মানবাধিকার, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা দেওয়া হয়। সেই হজে নবী (সা.) নিজে হজের পদ্ধতি শিখিয়েছেন এবং বলেছেন, আমার কাছ থেকে তোমরা তোমাদের হজের নিয়ম শিখে নাও। তাই আজও মুসলিমরা সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করেন। বিদায় হজের আগে নবম হিজরিতে আবু বকর (রা.)-কে আমির করে হজ পাঠানোর কথাও ইতিহাসে প্রসিদ্ধ।
হজ ফরজ হওয়ার শর্ত
- মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের হওয়া
- আর্থিক সামর্থ্য থাকা, যার মধ্যে হজকালীন সময়ে পরিবারের ভরণপোষণও অন্তর্ভুক্ত
- শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়া এবং যাতায়াতের পথ নিরাপদ হওয়া
- নারীর ক্ষেত্রে মাহরাম বা শরিয়তসম্মত সঙ্গী সংক্রান্ত বিধান (আলেমের পরামর্শ নিন)
কিছু বিষয়ে মাযহাবভেদে বা ব্যক্তিগত অবস্থার কারণে বিধান আলাদা হতে পারে। অতএব নিজের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত জানতে নির্ভরযোগ্য আলেমের সাহায্য নিন।
হজের মূল কাজ সংক্ষেপে
হজের ফরজ কাজগুলোর মধ্যে ইহরাম বাঁধা, ৯ জিলহজ আরাফায় অবস্থান (উকুফ) ও তাওয়াফে যিয়ারাহ অন্যতম। ওয়াজিব কাজের মধ্যে মুজদালিফায় রাত যাপন, কঙ্কর মারা, মাথা মুন্ডন বা ছোট করা ও বিদায়ী তাওয়াফ উল্লেখযোগ্য। সাঈ ও অন্যান্য কাজের বিস্তারিত বিধান হজের ধরন অনুযায়ী মাসআলার গ্রন্থে দেখা যায়।
আজকের হজ
প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসলিম মক্কায় একত্র হন। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থায় হাজিরা যান। হজ ২০২৭ মৌসুমের নিবন্ধন বন্ধ। সর্বশেষ প্যাকেজ ও খরচের ঘোষিত তথ্য জানতে দেখুন আমাদের হজের খরচ ২০২৭ গাইড। হজের প্রস্তুতির পাশাপাশি উমরাহর মাধ্যমেও পবিত্র স্থানগুলোর সফরের অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়। দেখুন উমরাহ প্যাকেজ।
হজের ইতিহাস থেকে যা শিখতে পারি
হজের প্রতিটি কাজের পেছনে একটি কর্মবাদ ও শিক্ষা আছে। ইবরাহিম (আ.)-এর আনুগত্য, হাজেরা (আ.)-এর আল্লাহর ওপর ভরসা ও ইসমাইল (আ.)-এর ধৈর্যের গল্প হাজিদের অনুপ্রাণিত করে। আরাফার ময়দানে সবাই একই পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহর কাছে সব মানুষ সমান। সাফা-মারওয়ার সাঈ ধৈর্য ও চেষ্টার গুরুত্ব বোঝায়। কাবার তাওয়াফ বলে দেয়, মুসলিমের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু এক আল্লাহ।
বিদায় হজের ভাষণ আজও প্রাসঙ্গিক। সেখানে মানুষের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদার নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে। হজ তাই শুধু আচার নয়, সমাজে ন্যায়, শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধন গড়ারও একটি পাঠ।
সাধারণ প্রশ্ন
হজ কোন বছর ফরজ হয়?
এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। অনেক আলেম বলেন ষষ্ঠ হিজরিতে, কেউ বলেন নবম বা দশম হিজরিতে। নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য ইসলামি ইতিহাসের বিশ্বস্ত গ্রন্থ পড়ুন।
হজ কি শুধু বৃদ্ধদের ইবাদত?
না। সামর্থ্য থাকলে যে কোনো বয়সেই হজ ফরজ হয়। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে সময়মতো আদায় করাই উত্তম।
হজ ও উমরাহর পার্থক্য কী?
হজ নির্দিষ্ট মাসগুলোতে সম্পন্ন হয়, আর উমরাহ বছরের যে কোনো সময় করা যায়। বিস্তারিত: হজ ও উমরাহের পার্থক্য।
সম্পর্কিত পড়ুন
লেখক: নাজমুস শাকেব, ম্যানিজিং পার্টনার, আল-সাফওয়া ট্রেড ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (হজ লাইসেন্স HL ৬২৫)। মক্কায় বেড়ে ওঠা, ঢাকা থেকে হজ-উমরাহ যাত্রীদের সেবায় যুক্ত। আমাদের সম্পর্কে
দ্রষ্টব্য: এটি সাধারণ নির্দেশনা। নির্দিষ্ট মাসআলায় নির্ভরযোগ্য আলেম বা হজ গাইডের পরামর্শ নিন। দাবিত্যাগ
উমরাহ ও ভবিষ্যৎ হজের তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন
Al-Safwa Trade Tours & Travels (HL ৬২৫) · Dhaka Trade Tours & Travels (HL ৩৩৬)
01552-600854 · নাজমুস শাকেব 01714-075291, 01974-075291 · ওবায়দুর রহমান হানিফ 01670-787633
যোগাযোগ করুন উমরাহ প্যাকেজআল-সাফওয়া (HL ৬২৫) — যোগাযোগ
নাজমুস শাকেব: 01714-075291 | 01974-075291
হানিফ: 01670-787633 | 01919-787633
অফিস: 01552-600854