
হজের সফর দীর্ঘ, প্রায় ৪০ দিনের মতো, আর প্রতিটা জিনিস গোছানো থাকলে ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। ২০২৭ সালের জন্য সরকারি চূড়ান্ত ব্যাগেজ ও স্বাস্থ্য নির্দেশনা এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর নিয়ম ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটা বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি তালিকা নিচে দেওয়া হলো।
ব্যাগ ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা
ন্যূনতম দুইটা ব্যাগ রাখুন — একটা বড় চেক-ইন লাগেজ ও একটা হাতব্যাগ। সাম্প্রতিক নিয়ম অনুযায়ী মোট চেক-ইন লাগেজ সীমা সাধারণত ৪৬ কেজি (২৩ কেজি করে দুইটা ব্যাগ) এবং হাতব্যাগে সর্বোচ্চ ৭ কেজি পর্যন্ত রাখা যায় — এটা এয়ারলাইন ও টিকিট ক্লাসের ওপর নির্ভর করে বদলাতে পারে, তাই আপনার এজেন্সি/এয়ারলাইনের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন। “Road to Makkah” ইনিশিয়েটিভের আওতায় বড় লাগেজ ঢাকা বিমানবন্দর থেকেই মক্কা বা মদিনার আবাসস্থলে সরাসরি পৌঁছে যায়, তাই যাত্রাপথে বড় ব্যাগ বহনের ঝামেলা নেই। ব্যাগের গায়ে ইংরেজিতে স্পষ্ট করে নিজের নাম, ঠিকানা ও এজেন্সির তথ্য লিখে রাখুন — হারিয়ে গেলে খুঁজে পেতে সুবিধা হবে। তালা-চাবিসহ মজবুত ব্যাগ/ট্রলি ব্যবহার করুন।
জরুরি ডকুমেন্টস
পাসপোর্ট (মেয়াদ যথেষ্ট আছে কিনা যাচাই করুন), হজ ভিসা, প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেট (২০২৭ সালের নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন তালিকা এখনো ঘোষিত হয়নি, তবে সাম্প্রতিক বছরে মেনিনজাইটিস ও পোলিওর সনদ চাওয়া হয়েছে), কিছু সৌদি রিয়াল নগদ, পাসপোর্ট ও ভিসার ফটোকপি আলাদা করে রাখুন, আর নিয়মিত ওষুধ খেলে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনসহ পর্যাপ্ত সরবরাহ (অন্তত দেড় মাসের মতো) সাথে নিন।
ইহরাম ও পোশাক
পুরুষদের জন্য কমপক্ষে দুই সেট ইহরামের কাপড় ও ইহরাম বেল্ট রাখুন — একটা পরনে, একটা বাড়তি। সাধারণ পোশাক হিসেবে পাঞ্জাবি, পায়জামা, লুঙ্গি, গেঞ্জি, গামছা, তোয়ালে ও আরামদায়ক জুতা/স্যান্ডেল নিন। মহিলারা নামাজ-উপযোগী সালোয়ার-কামিজ ও বোরকা/আবায়া রাখবেন। সৌদি আরবের তাপমাত্রা ৪০-৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যায়, তাই হালকা সুতির কাপড় প্রাধান্য দিন, তবে শীতের সময় ভ্রমণ করলে হালকা গরম কাপড়ও রাখুন।
ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় উপকরণ
কোরআন শরিফ, নির্ভরযোগ্য একটা হজ গাইড বই, তসবি, ছোট প্লাস্টিক জায়নামাজ, মিসওয়াক, তায়াম্মুমের মাটি এবং আতর (অবশ্যই অ্যালকোহলমুক্ত — ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আছে) সাথে রাখুন। ছোট আয়না, চিরুনি, সাবান-শ্যাম্পু (অ্যালকোহল ও তীব্র সুগন্ধমুক্ত হলে ভালো) নিন।
স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা
প্রাথমিক চিকিৎসার ছোট একটা কিট, সানস্ক্রিন, প্রয়োজনীয় বাড়তি চশমা, আর নিয়মিত ওষুধের পাশাপাশি সাধারণ জ্বর-মাথাব্যথা-পেটের সমস্যার ওষুধও রাখা ভালো — দীর্ঘ সফরে হঠাৎ প্রয়োজন হতে পারে।
ছোট কিন্তু জরুরি জিনিস
পাসপোর্ট-টিকেট-হজ বই রাখার জন্য গলায় বা কাঁধে ঝুলানো ছোট ব্যাগ, মোবাইল-রিয়াল রাখার জিপার বেল্ট (ভিড়ের মধ্যে মূল্যবান জিনিস হারানোর ঝুঁকি বেশি, তাই সাবধানতা জরুরি), ছোট ছাতা (রোদ থেকে বাঁচতে), হাওয়া বালিশ ও হালকা চাদর (মুজদালিফার রাতের জন্য বিশেষভাবে দরকারি), আর মোবাইল চার্জার ও অ্যাডাপ্টার।
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
রেজর, ব্লেড, নেইল কাটার, কাঁচি বা কোনো ধাতব ও ধারালো জিনিস হাতব্যাগে না রেখে বড় চেক-ইন লাগেজে রাখুন — বিমানের নিয়মে হাতব্যাগে এসব নিষিদ্ধ। খাবার, পানি, শুকনো মাছ, গুড় বা যেকোনো রান্না করা/পচনশীল খাবার সাথে নেওয়া নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য। জমজমের পানি নিজে বহন করতে হয় না — দেশে ফেরার সময় প্রত্যেক হজযাত্রীকে সরকারিভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ দেওয়া হয়।
আল-সাফওয়া’র হজ গ্রুপের সাথে যাত্রা করলে প্রস্থানের আগে সম্পূর্ণ ব্রিফিং সেশন ও একটা বিস্তারিত চেকলিস্ট দেওয়া হয়, যাতে কোনো জরুরি জিনিস বাদ না পড়ে। ২০২৭ সালের হজের জন্য প্রাক-প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন।