সাফা মারওয়া সাঈ — সম্পূর্ণ গাইড বাংলা ২০২৭

সাফা মারওয়া সাঈ — সম্পূর্ণ গাইড বাংলা ২০২৭ - Al-Safwa Trade Tours & Travels

সাফা মারওয়া সাঈ হজ ও উমরাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। হানাফি মাযহাবে সাঈ ওয়াজিব, অন্য মাযহাবে একে রুকন ধরা হয়। হাজেরা (আ.) এর স্মরণে এই আমল চিরস্থায়ী হয়েছে। পুত্র ইসমাইল (আ.) এর জন্য পানির খোঁজে তিনি এই দুই পাহাড়ের মাঝে ছুটে বেড়িয়েছিলেন, আর আল্লাহ তায়ালা যমযমের ব্যবস্থা করে দেন। আমি মক্কায় বড় হয়েছি, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে এই পথে হাঁটতে দেখেছি — তাই নতুন হাজিদের কোথায় ভুল হয় তা কাছ থেকে জানি।

সাঈ কী?

সাফা পাহাড় থেকে মারওয়া পাহাড় পর্যন্ত হাঁটাকে সাঈ বলে। মোট ৭ চক্কর — সাফা থেকে মারওয়া = ১ চক্কর, মারওয়া থেকে সাফা = ২য় চক্কর। শেষ চক্কর মারওয়ায় শেষ হয়। এভাবে শুরু সাফায়, আর সপ্তম চক্কর শেষ হয় মারওয়ায়।

সাফা মারওয়া সাঈ করার নিয়ম: ধাপে ধাপে

  1. তাওয়াফ শেষে: মাকামে ইব্রাহিমে ২ রাকাত নামাজ পড়ুন, সুযোগ হলে যমযমের পানি পান করুন
  2. সাফায় উঠুন: কাবার দিকে মুখ করে দোয়া করুন
  3. হাঁটুন: সাফা থেকে মারওয়ার দিকে
  4. সবুজ বাতির মাঝে: পুরুষরা দ্রুত হাঁটুন (Raml)
  5. মারওয়ায়: কাবার দিকে মুখ করে দোয়া পড়ুন
  6. ৭ চক্কর পূর্ণ করুন

সাঈর নিয়ত ও পুরো পথের সহজ বর্ণনা

সাঈ শুরুর আগে মনে মনে আল্লাহর জন্য সাঈর নিয়ত করুন। সাফার কাছে গিয়ে কুরআনের এই অংশ পড়া সুন্নত: “ইন্নাস-সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ”। এরপর সাফায় উঠে কাবার দিকে ফিরে দুই হাত তুলে আল্লাহর প্রশংসা ও তাকবীর বলুন, তারপর নিজের জন্য, পরিবারের জন্য ও সব মুসলিমের জন্য দোয়া করুন। এরপর মারওয়ার দিকে হাঁটা শুরু করুন। মাঝখানে সবুজ বাতি লাগানো অংশে পৌঁছালে পুরুষরা একটু দ্রুত হাঁটবেন, বাকি পথ স্বাভাবিক গতিতে। মারওয়ায় পৌঁছে একইভাবে কাবার দিকে ফিরে দোয়া করুন। এভাবে সাত চক্কর শেষ হলে সাঈ পূর্ণ হয়। হজে তামাত্তু আদায়কারী হাজিরা উমরাহর সাঈ এবং হজের সাঈ — দুইবার সাঈ করেন।

সাফায় দোয়া

“ইন্নাস-সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ” — তারপর কাবার দিকে তাকিয়ে ৩ বার তাকবীর দিন ও দোয়া করুন।

সাফা ও মারওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো দোয়াই বাধ্যতামূলক নয়। যে দোয়া আপনি সহজে বুঝে পড়তে পারেন, সেটাই মন থেকে পড়ুন। হাঁটার সময়ও জিকির, তাসবিহ, কুরআনের আয়াত বা নিজের ভাষায় দোয়া করা যায়। বিস্তারিত দোয়ার জন্য হজের দোয়া বাংলা অর্থসহ লেখাটি দেখতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • ✅ ওযু থাকা সুন্নত (শর্ত নয়)
  • ✅ মহিলারা Raml করবেন না
  • ✅ তাওয়াফ শেষ হওয়ার পর হায়েজ শুরু হলে সাঈ নিয়ে অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নিন
  • ✅ সাঈর দূরত্ব: প্রায় ৩.১৫ km (৭ চক্কর)
  • ✅ সাঈ সবসময় তাওয়াফের পরে করতে হয়, আগে নয়

সাঈতে সাধারণ ভুল ও কীভাবে এড়াবেন

  • চক্কর গণনায় ভুল: সাফা থেকে মারওয়া এক চক্কর, ফিরে আসা আলাদা চক্কর — দুটিকে একসাথে এক গণনা করবেন না। হাতে ছোট তাসবিহ বা মোবাইলে নোট রাখুন।
  • মারওয়া থেকে শুরু করা: সাঈ সবসময় সাফা থেকে শুরু হয়। ভিড়ের মধ্যে ভুল দিক ধরলে থেমে সঠিক জায়গায় ফিরে যান।
  • মহিলাদের দৌড়ানো: সবুজ বাতির অংশে দ্রুত হাঁটা শুধু পুরুষদের জন্য।
  • ধাক্কাধাক্কি করা: বয়স্ক ও অসুস্থ হাজিদের জায়গা দিন। ধৈর্য সাঈর আদবের অংশ।
  • নামাজের সময় অবহেলা: জামাতের ইকামত হলে সাঈ থামিয়ে নামাজ পড়ুন, তারপর যেখানে থেমেছিলেন সেখান থেকে আবার শুরু করুন।
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি: সাঈর আগে পর্যাপ্ত পানি পান করুন ও আরামদায়ক জুতা সাথে রাখুন, সাঈর সময় যেখানে প্রয়োজন সেখানে বিশ্রাম নেওয়া যায়।

সাঈর ইতিহাস: হাজেরা (আ.) ও যমযম

সাঈর গল্পটি মনে রাখলে আমলটির মানে আরও সহজ হয়। বর্ণনা অনুযায়ী বিবি হাজেরা (আ.) শিশু ইসমাইল (আ.)-এর জন্য পানি খুঁজতে সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাতবার ছুটেছিলেন। আল্লাহর কুদরতে শিশুর পায়ের কাছে যমযমের উৎস বের হয়। এই ত্যাগ ও তাওয়াক্কুলের স্মরণেই আজও লক্ষ লক্ষ মানুষ সাফা-মারওয়ায় সাঈ করেন। তাই সাঈ কেবল হাঁটা নয়, আল্লাহর ওপর ভরসা ও সবরের একটি শিক্ষা।

উমরাহ ও হজে সাঈর পার্থক্য

উমরাহতে তাওয়াফের পর সাঈ করে চুল ছোট করলে ইহরাম মুক্ত হয়। হজে তামাত্তু করলে উমরাহর সাঈ আলাদা ও হজের সাঈ আলাদাভাবে করতে হয়। কিরান বা ইফরাদ হজকারীর নিয়ম কিছুটা আলাদা হতে পারে, তাই আপনার হজের ধরন অনুযায়ী গাইডের কাছে জেনে নিন। আল-সাফওয়ার হাজিদের প্রশিক্ষণে সাঈর এই পাথর্ক্যও বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য সাঈর টিপস

সাঈর পথ প্রায় তিন কিলোমিটার হওয়ায় বয়স্কদের একটু বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়। সময় নিয়ে থাকুন, ভিড়ের সময় এড়িয়ে হাঁটুন, পানি পান করে নিন এবং প্রয়োজনে বিশ্রামের জায়গা খুঁজুন। হাঁটতে কষ্ট হলে হুইলচেয়ার ব্যবহার করা যায়। বাড়ি থেকে যাওয়ার আগে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করলে সাঈ অনেক সহজ হয়। গরমের সময় কষ্ট বাড়ে, তাই সাথে ছাতা বা টুপি রাখাও ভালো।

সাঈ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

প্র: সাঈ কিভাবে করতে হয়?

তাওয়াফ শেষ করে সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় গিয়ে সাত চক্কর পূর্ণ করতে হয়। সাফায় ও মারওয়ায় কাবার দিকে ফিরে দোয়া করুন।

প্র: সাঈ কি ওযু ছাড়া করা যায়?

ওযু থাকা উত্তম ও সুন্নত, তবে সাঈর জন্য ওযু শর্ত নয়।

প্র: সাঈর সময় বসে বিশ্রাম নেওয়া যায় কি?

হ্যাঁ, প্রয়োজনে বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং হুইলচেয়ারে সাঈ করারও সুযোগ আছে। অসুস্থ বা বয়স্ক হাজিরা এই সুবিধা নিতে পারেন।

প্র: সাঈর দোয়া কোনটি পড়ব?

সাফায় উঠে “ইন্নাস-সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ” পড়ুন, তাকবীর বলুন এবং নিজের ভাষায় দোয়া করুন। কোনো নির্দিষ্ট দোয়া বাধ্যতামূলক নয়।

প্র: হজে কতবার সাঈ করতে হয়?

তামাত্তু হজে উমরাহর সাঈ এবং হজের সাঈ — মোট দুইবার। হজের ধরন অনুযায়ী নিয়ম ভিন্ন হতে পারে, তাই আপনার গাইডের সাথে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সম্পর্কিত পড়ুন

আল-সাফওয়া ট্রেড ট্যুরস | HL 625

01714-075291, 01974-075291 | 01670-787633

হজ প্যাকেজ দেখুন

আল-সাফওয়া (HL ৬২৫) — যোগাযোগ

নাজমুস শাকেব: 01714-075291 | 01974-075291

হানিফ: 01670-787633 | 01919-787633

অফিস: 01552-600854

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হোমআমাদের সম্পর্কেসেবাসমূহ🕋 হজ্জ প্যাকেজ☪ রমজান প্যাকেজ🌙 উমরাহ প্যাকেজযোগাযোগ📝 ব্লগ
.........
Scroll to Top