
১০ জিলহজ হজের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। এদিন মিনায় কয়েকটি কাজ নির্দিষ্ট ক্রমে করতে হয়, যার একটি হলো হাদি বা কুরবানি। ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতি এর সাথে জড়িত। প্রথমবার হজে যাওয়া মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে: কার ওপর কুরবানি, কোন পশু চলবে, কোথায় ও কখন হবে, আর নিজে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে কিনা। এই লেখায় সবগুলো প্রশ্নের উত্তর সহজভাবে দেওয়া হলো।
কুরবানির তাৎপর্য
কুরআনে সূরা আল-হাজ্জে আল্লাহ বলেছেন, কুরবানির পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। অর্থাৎ কুরবানির আসল লক্ষ্য আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা। ইবরাহিম (আ.) পুত্রকে উত্সর্গ করতে প্রস্তুত হওয়ার ঘটনা কুরআনের সূরা আস-সাফফাতে উল্লেখ আছে। এই স্মৃতির বাস্তব অনুশীলনই হজের হাদি। তাই কুরবানির সময় মনের নিয়ত শুদ্ধ রাখা পশুর দামের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
হজের কুরবানি কী ও কার ওপর ওয়াজিব?
তামাত্তু ও কিরান হজ পালনকারীর ওপর শুকরিয়ার কুরবানি (দমে শুকর) ওয়াজিব। ইফরাদ হজকারীর জন্য এটি নফল। বাংলাদেশ থেকে অধিকাংশ হাজি তামাত্তু হজ করেন, তাই তাঁদের কুরবানি দিতে হয়। এটি ঈদুল আযহার সাধারণ কুরবানি থেকে আলাদা বিষয়। দেশে কুরবানি দিলেও হজের হাদি আদায় হয় না।
শুকরিয়ার কুরবানির সাথে কাফফারার দমকে গুলিয়ে ফেলবেন না। ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ করলে যে দম দিতে হয়, তার নিয়ম আলাদা; সেই গোশত নিজে খাওয়া যায় না। এর বিস্তারিত মাসআলা আলেমের কাছ থেকে জেনে নিন।
১০ জিলহজের কাজের ক্রম
| ক্রম | কাজ |
|---|---|
| ১ম | জামারাতুল আকাবায় (বড় জামারা) সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ |
| ২য় | হাদি বা কুরবানি |
| ৩য় | মাথা মুণ্ডন (পুরুষ) অথবা চুল ছোট করা; নারীদের আঙুলের এক কর পরিমাণ চুল কাটা |
| ৪র্থ | তাওয়াফে যিয়ারাহ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ (সাঈ আগে না করে থাকলে) |
এই ক্রমে আগ-পিছ হলে আলেমদের মতে কিছু ক্ষেত্রে দম লাগতে পারে। তাই গ্রুপ লিডারের নির্দেশ ভালোভাবে বুঝে নিন। বিশেষ করে জবাই হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার আগে মাথা মুণ্ডন নয়।
কুরবানির সময় ও স্থান
হানাফি ফিকহে তামাত্তু ও কিরানের হাদি কুরবানির দিনগুলোতে (১০, ১১ ও ১২ জিলহজ) জবাই করার কথা বলা হয়, এবং সেটি হারামের সীমানার ভেতরে — মিনা বা মক্কায় — সম্পন্ন হতে হয়। সাধারণত ১০ জিলহজেই সবচেয়ে বেশি কুরবানি হয়, কারণ ক্রম অনুসারে রমির পরেই এটি আসে। পশু জবাইয়ের সময় কত হবে তা ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে, তাই অস্থির হয়ে পড়বেন না।
কুরবানির পশু
| পশু | নিয়ম |
|---|---|
| ছাগল ও ভেড়া | সাধারণত এক বছর বয়সী, একজনের পক্ষে |
| গরু ও মহিষ | দুই বছর বয়সী, সর্বোচ্চ সাতজনের শরিকে |
| উট | পাঁচ বছর বয়সী, সর্বোচ্চ সাতজনের শরিকে |
পশু সুস্থ ও খুঁতমুক্ত হতে হবে। অন্ধ, স্পষ্ট খোঁড়া বা খুব রোগাক্রান্ত পশু চলবে না। অচেনা কাউকে টাকা দিয়ে পশু কিনতে যাওয়ার চেয়ে অনুমোদিত ও সংগঠিত ব্যবস্থায় কুরবানি করানো নিরাপদ।
হজে কুরবানি কীভাবে হয়?
সৌদি আরবে হাজিদের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থায় কুরবানি হয়, যেখানে যাত্রীর পক্ষ থেকে টাকা জমা দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট স্থানে জবাই হয়। খরচের পরিমাণ বছর ও ব্যবস্থাভেদে বদলায়। কোনো প্যাকেজে কুরবানির টাকা অন্তর্ভুক্ত আছে কিনা, তা বুকিংয়ের আগে লিখিতভাবে নিশ্চিত করে নিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো হলো:
- কুরবানির খরচ প্যাকেজের ভেতরে আছে নাকি আলাদা দিতে হবে?
- কোন পশু দেওয়া হবে এবং কার নামে হবে?
- জবাই সম্পন্ন হলে কীভাবে জানানো হবে?
- গোশত বিতরণের ব্যবস্থা কী?
কুরবানির সময় দোয়া
জবাইয়ের সময় বলা হয়: বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। এর সাথে এই দোয়া পড়া হয়: আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা। অর্থ: হে আল্লাহ, এটি তোমারই পক্ষ থেকে এবং তোমারই জন্য। অন্যের মাধ্যমে জবাই হলেও মনে মনে কুরবানির নিয়ত করে দোয়া করা যায়।
সাধারণ ভুল যা এড়ানো উচিত
- জবাই হয়েছে কিনা নিশ্চিত না হয়ে মাথা মুণ্ডন করে ফেলা
- দেশে করা কুরবানিকে হজের হাদির বিকল্প ভাবা
- প্যাকেজে কুরবানি অন্তর্ভুক্ত আছে ধরে নিয়ে লিখিত নিশ্চিত না করা
- অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছে টাকা দেওয়া
- শুকরিয়ার কুরবানি ও কাফফারার দমকে এক ভাবা
কুরবানি দিতে না পারলে
কুরবানির সামর্থ্য না থাকলে তামাত্তু হজকারীর জন্য রোজা রাখার বিধান আছে: হজের সময়ে তিনটি এবং দেশে ফিরে সাতটি রোজা। হজের সময়ের তিনটি রোজা সাধারণত ১০ জিলহজের আগে রাখতে হয়, তাই দেরি না করে আলেমের কাছ থেকে সময়সূচি জেনে নিন।
১০ জিলহজের দিনের পরিকল্পনা
এই দিনে মিনায় বিশাল ভিড় থাকে, তাই সকালের আগেই সব প্রস্তুতি সেরে রাখুন। কঙ্কর, পানি, হালকা খাবার ও স্থানীয় যোগাযোগ নম্বর সাথে রাখুন। গ্রুপ লিডারের সময়সূচি অনুযায়ী জামারায় যান, তারপর কুরবানির খবরের অপেক্ষায় তাঁবুতে বিশ্রাম নিন। যামেলায় সময় নষ্ট হলে হতাশ হবেন না; এ দিনের চাহিদাই ধৈর্য। বয়স্ক বা অসুস্থ হলে ভিড়ের সময় এড়িয়ে চলার বিষয়ে গ্রুপ লিডারের পরামর্শ নিন।
কুরবানি ও মাথা মুণ্ডনের পর ইহরাম থেকে মুক্তি
বড় জামারায় কঙ্কর, কুরবানি ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার পর ইহরামের অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়, যাকে প্রাথমিক হালাল বলা হয়। সাম্প্রতিক পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার ও নখ-চুল কাটার মতো কাজগুলো সাধারণত এর পর করা যায়, তবে স্ত্রী-সহবাস তাওয়াফে যিয়ারাহ শেষ হওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকে। তামাম মুক্তির নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় সম্পর্কে গ্রুপ লিডার ও আলেমের নির্দেশনা মেনে চলুন। তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন হলে তবেই পূর্ণ হালাল হওয়া যায়।
সাধারণ প্রশ্ন
কুরবানির গোশত কি খাওয়া যায়?
তামাত্তু ও কিরানের শুকরিয়ার কুরবানির গোশত নিজে খাওয়া যায় এবং অন্যকে দেওয়া যায়। তবে সংগঠিত ব্যবস্থায় গোশত নিজে নিতে নাও পারেন, তার নিয়ম আগে জেনে নিন।
অন্য কেউ কি আমার পক্ষে কুরবানি করতে পারে?
হ্যাঁ, অনুমোদিত ব্যবস্থায় প্রতিনিধির মাধ্যমে হতে পারে। তবে নিশ্চিত হোন যে আপনার নামে হচ্ছে।
জবাই হয়েছে কিনা কীভাবে জানব?
বুকিংয়ের সময় এজেন্সিকে জিজ্ঞেস করুন কীভাবে ও কখন আপনাকে জানানো হবে, এবং সেই নির্দেশনার পরই মাথা মুণ্ডনের সিদ্ধান্ত নিন।
ভবিষ্যৎ হজ সম্পর্কে কোথায় জানব?
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আসন্ন উমরাহর জন্য উমরাহ প্যাকেজ ও সব ধরনের প্যাকেজ দেখতে পারেন।
সম্পর্কিত পড়ুন
লেখক: নাজমুস শাকেব, ম্যানেজিং পার্টনার, আল-সাফওয়া ট্রেড ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (হজ লাইসেন্স HL ৬২৫)। মক্কায় বেড়ে ওঠা, ঢাকা থেকে হজ-উমরাহ যাত্রীদের সেবায় যুক্ত। আমাদের সম্পর্কে
দ্রষ্টব্য: এটি সাধারণ নির্দেশনা। নির্দিষ্ট মাসআলায় নির্ভরযোগ্য আলেম বা হজ গাইডের পরামর্শ নিন। দাবিত্যাগ
আল-সাফওয়া ট্রেড ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস | HL 625
উমরাহ, রমজান প্যাকেজ এবং ভবিষ্যৎ হজ সম্পর্কিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন।
অফিস: 01552-600854
নাজমুস শাকেব: 01714-075291, 01974-075291 | ওবায়দুর রহমান হানিফ: 01670-787633
যোগাযোগ করুনআল-সাফওয়া (HL ৬২৫) — যোগাযোগ
নাজমুস শাকেব: 01714-075291 | 01974-075291
হানিফ: 01670-787633 | 01919-787633
অফিস: 01552-600854