
হজের মূল কাজ শেষ হলেও অনেক কাজ বাকি থাকে। ১০ জিলহজের কাজ, আইয়ামে তাশরিক, মক্কা ছাড়ার আগের বিদায়ী তাওয়াফ, মদিনা সফর ও দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত থাকেন। এখানে ধাপে ধাপে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
১০ জিলহজের পর যেসব কাজ করতে হয়
মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে ১০ জিলহজে কয়েকটি কাজ করতে হয়। কোনটি আগে, কোনটি পরে এবং কোন সময়ে করলে সহজ হয়, তা গাইডের নির্দেশনা ও ভিড়ের অবস্থার ওপর নির্ভর করে। সাধারণ ক্রম নিচে দেওয়া হলো।
- জামারাতে পাথর মারা: ১০ জিলহজ বড় জামারাতে সাতটি কঙ্কর মারা হয়।
- হাদি বা কোরবানি: যাঁরা তামাত্তু বা কিরান হজ করেন, তাঁদের কোরবানি করতে হয়। এটি সাধারণত দলের ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
- মাথা মুন্ডন বা চুল ছোট করা: পুরুষরা মাথা মুন্ডন বা ছোট করেন; মুন্ডন উত্তম। নারীরা চুলের গোড়ার দিক থেকে আঙুলের এক পর্ব পরিমাণ চুল কাটেন।
- তাওয়াফে যিয়ারাহ: এটি হজের ফরজ। ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে করা উত্তম। সাফা-মারওয়ার সাঈ যদি আগে না করে থাকেন তবে এর পর করতে হয়।
এই কাজগুলোর ক্রম ও বিশদ নিয়ম হজের ধরন (তামাত্তু, কিরান, ইফরাদ) অনুযায়ী আলাদা হয়ে যায়। তাই মিনায় গাইডের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
আইয়ামে তাশরিক ও মিনার রাত
১১ ও ১২ জিলহজ সাধারণত তিন জামারাতে সাতটি করে কঙ্কর মারা হয়। সাধারণ নিয়মে কঙ্কর মারার সময় দুপুরের পর থেকে শুরু হয়, তবে ভিড়ের কারণে সময়ের বিষয়ে আলেমদের বিভিন্ন মত আছে। তাই দলনেতার নির্দেশনা অনুযায়ী সময় বেছে নিন। ভিড় এড়াতে সময় বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, তবে প্রয়োজনে আলেমের পরামর্শ নিন।
১১ ও ১২ তারিখের রাত মিনায় কাটানো সুন্নত বা ওয়াজিব হিসেবে আলেমদের ভিন্ন মত আছে, তাই আপনার মাযহাব অনুযায়ী জেনে নিন। সাধারণভাবে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ছেড়ে সরে গেলে ১৩ তারিখের কঙ্কর মারার দরকার হয় না। সূর্যাস্তের পর থাকলে পরের দিনের কাজও নিয়মমতো করতে হয়। বিস্তারিত নিয়মে গাইডের সাহায্য নিন।
বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফে ওয়াদা)
মক্কার বাইরের হাজিদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ ওয়াজিব। মক্কা ছাড়ার ঠিক আগে এটি করা হয়, যাতে শেষ কাজটি হলো কাবার তাওয়াফ। তাওয়াফের পর কোনো বড় সময় থেকে গেলে তা পুনরায় করা ভালো, তবে প্রয়োজনের কাজে কিছু সময় থাকা সমস্যা নয়। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী ঋতুস্রাবগ্রস্ত নারীদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফে ছাড় আছে বলে আলেমরা উল্লেখ করেন। নির্দিষ্ট অবস্থায় আলেমের পরামর্শ নিন।
সরাসরি তাওয়াফের পর মসজিদুল হারামে দোয়া ও দুই রাকাত নামাজ পড়া ও জমজম পান করা সুন্নত। শেষবারের মতো কাবার দিকে তাকিয়ে আল্লাহর কাছে বারবার আসার সুযোগ চাওয়ার দোয়া করুন।
মনে রাখুন: তাওয়াফে যিয়ারাহ ও বিদায়ী তাওয়াফ সম্পূর্ণ আলাদা তাওয়াফ। একটি হজের ফরজ, অন্যটি ওয়াজিব। একটির বদলে অন্যটি আদায় করা যায় না।
সাধারণ ভুলগুলো যা এড়িয়ে চলতে হবে
- তাওয়াফে যিয়ারাহকে বিদায়ী তাওয়াফ ভেবে ভুল করা। দুটি আলাদা তাওয়াফ।
- কঙ্কর মারার সময় ভিড় এড়াতে সময় বেছে না নেওয়া।
- দেশে ফেরার ব্যাগ ও জমজমের নিয়ম আগে না জানা।
- ইহরামের অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ হয়ে গেলে তা লুকিয়ে রাখা। দরকারে দলনেতা ও আলেমের কাছে জিজ্ঞাসা করুন।
- শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োয় সব কাজ আস্তে না করা।
মদিনা সফর ও মক্কা ছাড়ার প্রস্তুতি
অনেক হাজি হজের পর অথবা আগে মদিনায় যান। মদিনায় সামান্য সময়ে মসজিদে নববীতে নামাজ ও সেখানকার পবিত্র স্থান দেখা বড় সৌভাগ্য। ফেরার আগে ছোট ছোট কাজ সারুন: হোটেলের রুম বুঝিয়ে দিন, পাওনা পরিশোধ করুন, পাসপোর্ট ও টিকিট গুছিয়ে রাখুন। অতিরিক্ত কেনাকাটা বাস্তবসম্মত রাখুন, কারণ বিমানে ব্যাগেজের সীমা আছে।
দেশে ফিরে করণীয়
- আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন এবং হজ কবুলের দোয়া করুন।
- হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি অশ্লীলতা ও পাপ থেকে বিরত থেকে হজ করে, সে নবজাতকের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে (বুখারি, মুসলিম)।
- নিয়মিত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও সৎকাজ চালিয়ে যান।
- আত্মীয়-পরিজনকে হজের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা জানান এবং ঋণ বা হক থাকলে আদায় করুন।
- হজের অভিজ্ঞতা ডায়েরিতে লিখে রাখুন, যা অন্যদের কাজে আসতে পারে।
- হাজি উপাধি নিয়ে অহংকার না করা। বিনয়ী থাকাই কবুলের আলামত বলে আলেমরা উল্লেখ করেন।
হজ-পরবর্তী সময়ের বাস্তব সতর্কতা
দীর্ঘ ক্লান্তিকর সফরের পর শরীর দুর্বল থাকে। দেশে ফেরার পর কয়েক দিন বিশ্রাম নিন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সৌদি আরবের আবহাওয়া ও ভিড়ের কারণে অনেক হাজি কাশি, জ্বর বা পেটের সমস্যায় ভোগেন। তাই ফিরে এসে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়া জরুরি।
আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার সময় সফরের কষ্ট নিয়ে অভিযোগ না করে শোকর ও শিক্ষার কথা বলুন। কাউকে হজের অভিজ্ঞতা শোনানোর সময় অতিরঞ্জন না করা এবং অন্যকে হজে যেতে উৎসাহিত করা ভালো কাজ। যাঁরা এখনো হজে যাননি, তাঁদের জন্য সহজ ভাষায় প্রস্তুতির পরামর্শ দিন এবং নির্ভরযোগ্য আলেম বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সির কাছে যেতে বলুন।
হজ কবুল হলো কিভাবে বুঝবেন?
নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। আলেমরা বলেন, হজের পর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন, গুনাহ থেকে বিরতি ও ইবাদতে ধারাবাহিকতা কবুলের আলামত হতে পারে। তাই হজের পরেও আল্লাহর কাছে দোয়া করুন ও ভালো কাজে স্থির থাকুন।
সাধারণ প্রশ্ন
জমজম কীভাবে আনবেন?
বিমান সংস্থা ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম যাচাই করুন। বিস্তারিত: জমজম পানির নিয়ম।
হজ কবুল হয়েছে কীভাবে বুঝবেন?
নিশ্চিত কিছু বলা যায় না। আলেমরা বলেন, হজের পর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন ও আমলের ধারাবাহিকতা কবুলের আলামত হতে পারে।
বিদায়ী তাওয়াফের পর মক্কায় থেকে গেলে কি হয়?
প্রয়োজনের তাগিদে কিছু সময় থাকা নিয়ে সমস্যা নেই। তবে দীর্ঘ সময় থেকে গেলে পুনরায় করা ভালো। নির্দিষ্ট অবস্থায় আলেমের কাছে জিজ্ঞাসা করুন।
সম্পর্কিত পড়ুন
- হজ প্রশিক্ষণ ২০২৭
- হজ খরচ ২০২৭
- তাওয়াফ গাইড
- উমরাহ সফরের তথ্য: উমরাহ প্যাকেজ
লেখক: নাজমুস শাকেব, ম্যানিজিং পার্টনার, আল-সাফওয়া ট্রেড ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (হজ লাইসেন্স HL ৬২৫)। মক্কায় বেড়ে ওঠা, ঢাকা থেকে হজ-উমরাহ যাত্রীদের সেবায় যুক্ত। আমাদের সম্পর্কে
দ্রষ্টব্য: এটি সাধারণ নির্দেশনা। নির্দিষ্ট মাসআলায় নির্ভরযোগ্য আলেম বা হজ গাইডের পরামর্শ নিন। দাবিত্যাগ
উমরাহ ও ভবিষ্যৎ হজের তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন
Al-Safwa Trade Tours & Travels (HL ৬২৫) · Dhaka Trade Tours & Travels (HL ৩৩৬)
01552-600854 · নাজমুস শাকেব 01714-075291, 01974-075291 · ওবায়দুর রহমান হানিফ 01670-787633
আল-সাফওয়া (HL ৬২৫) — যোগাযোগ
নাজমুস শাকেব: 01714-075291 | 01974-075291
হানিফ: 01670-787633 | 01919-787633
অফিস: 01552-600854