
নারী হাজিদের প্রস্তুতি পুরুষদের থেকে কিছুটা আলাদা। ইহরামের পোশাক, মাসিক বা হায়েজ, মাহরাম, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, আর সব প্রশ্নের উত্তর কোথায় পাওয়া যাবে তা বুঝতে পারাও কঠিন। এই লেখায় সহজ ভাষায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো দেওয়া হলো। লেখাটি ভবিষ্যৎ হজ ও উমরাহ দুটির প্রস্তুতির জন্যই সাহায্য করবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: সরকারি ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নিয়ম বছরভেদে বদলায়, তাই সর্বশেষ নিয়ম আপনার এজেন্সির কাছ থেকে যাচাই করে নিন।
নারীদের ইহরাম
- শালীন, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন যা পুরো শরীর ঢাকে। ইহরামের জন্য নির্দিষ্ট রং বাধ্যতামূলক নয়; সাদা বা অন্য সাধারণ রং পরা যায়।
- মুখ খোলা রাখুন। নিকাব বা মুখে লেগে থাকা কাপড় ইহরামে পরা যাবে না। পরপুরুষের সামনে পড়লে মুখ থেকে কিছুটা দূরে কাপড় ধরে আড়াল করার অনুমতি আছে।
- হাতমোজা বা হাতে লেগে থাকা দস্তানা ইহরামে পরা যাবে না। অনেকের মধ্যে পুরনো ভুল ধারণা থাকে যে হাতমোজা পরা যায়।
- সুগন্ধি ও সুগন্ধিযুক্ত সাবান, শ্যাম্পু বা লোশন ইহরাম অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না। আগে থেকে সুগন্ধিমুক্ত সামগ্রী কিনে রাখুন।
- জুতা ও মোজা সাধারণ নারীদের জন্য পরা যায়।
- ছাতা ও মোবাইল ব্যবহার করা যায়।
ইহরাম বাঁধার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে ওযু করে নি। নিয়ত ও তালবিয়ার বিস্তারিত নিয়মের জন্য দেখুন ইহরাম পরার নিয়ম। নারীরা তালবিয়া নিচু স্বরে পড়েন।
মাহরাম ও দলগত ভ্রমণ
ইসলামি দৃষ্টিতে নারীর সফরে মাহরাম থাকা প্রধান নিয়ম হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং আলেমদের মধ্যে এ নিয়ে বিস্তারিত মত আছে। বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নিয়মও বছরভেদে বদলায়, বিশেষ করে বয়স ও দলগত ভ্রমণ নিয়ে। তাই অন্য কারও কথায় নয়, বুকিংয়ের আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা ও এজেন্সির সরাসরি তথ্য মিলিয়ে নিন। ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে কী হবে, তা জানতে সমস্যা হলে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নিন।
হায়েজ বা মাসিক অবস্থায় করণীয়
বেশিরভাগ প্রশ্ন এই বিষয়েই। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে আয়েশা (রা.)-এর ঘটনা আছে, যেখানে হায়েজের কারণে তাওয়াফ করতে না পারলে নবীজি (সা.) বলেছিলেন, পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ ছাড়া হজের বাকি কাজ করতে। এ থেকে প্রধান নিয়মগুলো বোঝা যায়:
- হায়েজ অবস্থায়ও ইহরাম বাঁধা যায়। তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ করা যাবে না এবং মসজিদুল হারামসহ মসজিদে প্রবেশ করা যাবে না।
- আরাফাতে অবস্থান (উকুফ), মুজদালিফায় রাত কাটানো ও মিনার কাজগুলো হায়েজ অবস্থায়ও করা যায়।
- তাওয়াফে যিয়ারাহ হজের ফরজ, তাই পবিত্র হওয়ার পর সেটি আদায় করতে হয়। সময়সীমার বিষয়ে আলেমের নির্দেশ ও দলের সূচি মিলিয়ে নিন।
- বিদায়ি তাওয়াফের বেলায় হায়েজগ্রস্ত নারীর জন্য সহজতার কথা হাদিসে এসেছে। খুঁটিনাটি শুনে নিন আলেমের কাছে।
- মাসিক পিছিয়ে দেওয়ার ওষুধ ব্যবহার নিয়ে আগেই ডাক্তার ও আলেমের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
উমরাহের সফরে ইহরাম বাঁধার পর হায়েজ শুরু হলে তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এখানে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী আলেমের সরাসরি নির্দেশনা অপরিহার্য।
তাওয়াফ, সাঈ ও চুল ছোট করা
নারীরা তাওয়াফে রামল ও ইদ্তিবা করেন না; স্বাভাবিক গতিতে হাঁটেন। সাফা-মারওয়ায়ও পুরুষদের মতো দ্রুত হাঁটার প্রয়োজন নেই। ইহরাম থেকে মুক্ত হতে নারীরা মাথা মুণ্ডন করেন না; বদলে চুলের অগ্রভাগ থেকে আঙুলের এক কর (পরিমাণ) কাটেন। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী মাথার চুলের অন্তত এক-চতুর্থাংশ থেকে এই পরিমাণ কাটার কথা বলা হয়; বিস্তারিত আলেমের কাছে জেনে নিন। নারী সহযাত্রীকে দিয়ে কাটানোই সবচেয়ে সুবিধাজনক।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা
- রওনার আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন, বিশেষ করে নিয়মিত ওষুধ, গর্ভাবস্থা বা দীর্ঘমেয়াদি অসুখ থাকলে।
- সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা ও স্বাস্থ্য সনদ সর্বশেষ শর্ত দেখে নিন।
- গরমে পানিশূন্যতা খুব সাধারণ সমস্যা, তাই পরিমিত পানি ও হালকা খাবার সর্বদা সাথে রাখুন।
- ভিড়ে দল থেকে আলাদা হয়ে যাবেন না। নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লেখা পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
- মিলনস্থান ঠিক করে রাখুন এবং সহযাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় আগে থেকেই ঠিক করুন।
- মসজিদে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও প্রবেশপথ আছে; নির্দেশনা বোর্ড ও কর্মীদের কথা মেনে চলুন।
সাথে রাখার জিনিস
| জিনিস | কারণ |
|---|---|
| ৫-৬ সেট শালীন পোশাক | ঘন ঘন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা |
| ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসামগ্রী | ভিড়ের সময় সহজে পাওয়া কঠিন |
| সুগন্ধিমুক্ত সাবান-লোশন | ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি নিষিদ্ধ |
| আরামদায়ক জুতা | দীর্ঘ হাঁটা |
| ছোট ব্যাগ | তাওয়াফ ও সাঈয়ের সময় হালকা রাখতে |
| নিয়মিত ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন | জরুরি প্রয়োজনে |
| অতিরিক্ত স্কার্ফ ও পিন | কাপড় সরে যাওয়া এড়াতে |
মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি
হজ ও উমরাহে শারীরিক পরিশ্রম ও ভিড় থাকে, তাই ধৈর্য রাখার মানসিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রওনার আগে কুরআন তিলাওয়াত, নিয়মিত নামাজ ও দোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দোয়া চেয়ে নিন এবং দায়-দায়িত্ব গুছিয়ে রাখুন, যাতে সফরে মন শান্ত থাকে। অনেক নারী হাজি প্রথমবার বিদেশ সফর করেন; তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণ অধিবেশনে অংশ নিয়ে প্রশ্ন করা অনেক কাজে আসে। নিজের আরাম ও স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিন, কারণ সুস্থ থাকলেই ইবাদতে মন বসে।
সাধারণ প্রশ্ন
সাঈ কি মাসিকের সময় করা যায়?
তাওয়াফের পর সাঈ করতে হয়। তাওয়াফ পবিত্র অবস্থায় না হলে সাঈ নিয়ে আলেমের নির্দেশনা নিন।
ইহরাম অবস্থায় মোবাইল বা ছাতা ব্যবহার করা যায়?
হ্যাঁ, ছাতা ও মোবাইল ব্যবহার করা যায়।
একা নারীর উমরাহ বা হজে যাওয়া যাবে কি?
এটি বয়স, দলগত ব্যবস্থা ও সরকারি নিয়মের ওপর নির্ভর করে, যা বছরভেদে বদলায়। সর্বশেষ নিয়ম এজেন্সির কাছ থেকে জেনে নিন।
গর্ভাবস্থায় যাওয়া কি নিরাপদ?
এটি কেবল ডাক্তারের পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। নিজে সিদ্ধান্ত নিবেন না।
আমাদের সাথে যোগাযোগ
ভবিষ্যৎ হজ ও উমরাহ সম্পর্কিত তথ্য জানতে ও নারী যাত্রীদের বিশেষ প্রয়োজন সম্পর্কে কথা বলতে যোগাযোগ করুন। আগামী সফরের জন্য উমরাহ প্যাকেজ ও সকল প্যাকেজ দেখুন।
সম্পর্কিত পড়ুন
লেখক: নাজমুস শাকেব, ম্যানেজিং পার্টনার, আল-সাফওয়া ট্রেড ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (হজ লাইসেন্স HL ৬২৫)। মক্কায় বেড়ে ওঠা, ঢাকা থেকে হজ-উমরাহ যাত্রীদের সেবায় যুক্ত। আমাদের সম্পর্কে
দ্রষ্টব্য: এটি সাধারণ নির্দেশনা। নির্দিষ্ট মাসআলায় নির্ভরযোগ্য আলেম বা হজ গাইডের পরামর্শ নিন। দাবিত্যাগ
আল-সাফওয়া ট্রেড ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস | HL 625
উমরাহ, রমজান প্যাকেজ এবং ভবিষ্যৎ হজ সম্পর্কিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন।
অফিস: 01552-600854
নাজমুস শাকেব: 01714-075291, 01974-075291 | ওবায়দুর রহমান হানিফ: 01670-787633
আল-সাফওয়া (HL ৬২৫) — যোগাযোগ
নাজমুস শাকেব: 01714-075291 | 01974-075291
হানিফ: 01670-787633 | 01919-787633
অফিস: 01552-600854